ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীরকেন্দ্রীয় জেনারেল সেক্রেটারি ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ভয়ভীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রাজনীতি দিয়ে এ দেশের জান-মালের কোনো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না, যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করে, চাঁদার জন্য পাথর দিয়ে মানুষ হত্যা করে—তাদের হাতে দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা নেই।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার তফজ্জল আলী কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ‘কিছু মহল হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের ভয় দেখিয়ে বলছে—দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে তাদের ঘরছাড়া হতে হবে, ধর্মীয় পরিচয় বিপন্ন হবে। তিনি এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, ইসলাম ধর্মে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, তারা প্রত্যেকেই দুর্নীতি, দলীয়করণ ও দমন-পীড়নের রাজনীতি করেছে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হামলা চালানো হয়েছে, কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং ইসলামী আন্দোলনের বহু নেতা-কর্মীকে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও বিচারব্যবস্থা ধ্বংসকারীদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে একটি মানবিক, সমৃদ্ধ ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। সে লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামসহ ছয়টি ইসলামী দল ও জুলাই যোদ্ধাদের এনসিপি ও মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অ:) অলি আহমেদ বীর বিক্রম এর এলডিপিসহ মোট ১১টি দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে আতাউর রহমান সরকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।’
পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই যোদ্ধাদের চেতনায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। জনগণের ভালোবাসা নিয়ে ইনশাল্লাহ আমরা সরকার গঠন করব।’
সরকার গঠনের সুযোগ পেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় হাসপাতালের উন্নয়ন, গ্যাস লাইনের সম্প্রসারণ করে ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগসহ সব স্থানীয় সমস্যার সমাধান করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নানা অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগের পরও ছাত্রশিবির বিজয়ী হয়েছে। এই বিজয় প্রমাণ করে দিয়েছে, দাঁড়িপাল্লাই পরিবর্তনের প্রতীক।’ ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজিমুক্ত রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার চাইলে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকার। ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শিবলী নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারোয়ারের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল সাত্তার, জেলা জামায়াতের আমির মোবারক হোসেন আখন্দ, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আমিনুল ইসলাম, এনসিপি কেন্দ্রীয় নেতা মো. আতাউল্লাহসহ জোটভুক্ত দলের নেতারা।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে কলেজ মাঠে দুপুর থেকেই হাজার হাজার ভোটার, কর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে এক সময় এটি মহাসমাবেশে পরিণত হয়।








